Adventurous sea expedition of Ferdinand Magellan | ফার্দিনান্দ ম্যাগেলানের দুঃসাহসিক সমুদ্র অভিযান

Introduction

Ferdinand Magellan was one of the most adventurous seafarers in Portugal. He had the distinction of orbiting the earth. He was born in 1480 in a poor family in Portugal. The royal family’s relationship with his parents was sweet. In his early life, Ferdinand Magellan served in the Portuguese court.

Due to his job, he gained a lot of experience in Portugal’s main commodities such as spices, perfumes, silk, etc. Soon relations with King Menon of Portugal deteriorated. Annoyed, Magellan soon crossed the border into Spain. In Spain then King Charles Fifth. The king accepted. Ferdinand Magellan also proposed a world tour.

Aims

From the complaints of Portuguese sailors in Spain, Ferdinand Magellan believed that the shape of the earth was not flat at all, in fact, he realized that the shape of the earth was round. So he thought that if someone kept moving in the same direction from one place to another, he would one day return to his previous position.

Ferdinand Magellan proposed this idea to the king, saying that if anyone could travel from Portugal to the southernmost point of Africa, the Cape of Good Hope, and across the Arabian Sea to Calicut, India, he would be able to reach the countries of the east to cross the western ocean. The king agreed. Because Spain was then motivated by the goal of preaching Christian Catholicism in the west bank countries of the Atlantic. There was also the greed for gold.

Conditions

There was an agreement between King and Magellan. According to the agreement, Ferdinand Magellan received five large ships of more than 100 tons, with adequate supplies of artillery, plenty of weapons, and two years of food. At the end of the expedition, Magellan will receive one-third of the profits, as well as omnipotence over any two occupied islands.

Ferdinand Magellan’s Sea Expedition

Ferdinand Magellan left the port of Seville on September 30, 1519. The ship set out in search of the end of South America. First Brazil, then the estuary of Riodelaplata, across the estuary is the port of St. Julian in Argentina. The sailors declared rebellion as they had not yet reached the finish line. Everyone asks Ferdinand Magellan to leave this difficult voyage plan and return to the country. But Magellan suppressed the rebellion and moved forward with a firm goal. In a few days, a great danger happened.

A ship sank after being hit by a submerged mountain. Although all the sailors swam and got on another ship. There are now four ships. In October 1520, the ships arrived in a narrow maritime system. Everyone thought this was the limit.

But even after about 150 miles, the Magellan, a sinking mountain on both sides, named the system after his name, the Strait of Magellan. The route in the Strait ends with a further 170 miles. November 28th came the day Ferdinand Magellan saw another ocean in the vast western waters of South America. Magellan got encouraged. He realized that his destination could only be reached by crossing this vast ocean.

From here Ferdinand Magellan traveled about a thousand miles northwest. It took about three months. But the ship did not fall in a storm. That is why the huge calm water is named after the Pacific Ocean. Danger came elsewhere. The food ran out. The sailors were forced to eat the rats and cockroaches hiding on the desk of the ship. Occasionally a couple of islands were found, but they were unsuitable for habitation, so no food was found.

Finally came the inhabited land of the Philippines Islands on March 15th. Enough food and drink are available here. There are numerous islands. Ferdinand Magellan went from one side to the other primarily to spread Christianity and establish Spanish domination. Thus Shibu Island was conquered. This time he went to Mactan island. Danger came here.

When he tried to convert the king to Christianity, everyone got angry. Realizing the danger, Ferdinand Magellan tried to escape aboard but was not saved. The people of the island grabbed him and killed him. Magellan’s life ended on April 21, 1521, at the age of just 41, on the island.

After Magellan’s death, the sailors split in two and boarded two ships. They burned the rest of the ship. The purpose is to return to the country on a predetermined route, which means to return to the Spanish port of Seville via the southern tip of South Africa, through the Cape of Good Hope.

The wind had created a problem. It was blowing from the opposite direction. One ship had arrived at the Indonesian port. The port was occupied by the Portuguese. The Portuguese captured the ship without hindrance. However, the other ship, loaded with spices and cloves, avoiding the eyes of the Portuguese,  sailed to the Cape of Good Hope. Then arrived on September 8, 1522, at the port of Seville, Spain.

The king of Spain was overjoyed to find cloves and spices, but none of Magellan’s survivors were allowed to share in the treaty, as Magellan’s wife had also died.

Conclusion

This expedition was much more colorful than the geographical expeditions of Vasco da Gama or Columbus. Ferdinand Magellan was able to give real proof that the idea that the earth is round and not flat is not just speculative. Although Magellan could not complete his expedition. Yet in his lifetime he was able to see evidence of a round earth and the existence of the Pacific Ocean.

In the Ferdinand Magellan expedition, there was no find the torture and atrocities that were captured during the Columbus or Vascadagama expeditions. Magellan’s voyage was not only a voyage of discovery of the spice island, it was also the first voyage to orbit the entire world.

Notes in Bengali

ফার্দিনান্দ ম্যাগেলান এর সমুদ্র অভিযান

ভূমিকা

ফার্দিনান্দ ম্যাগেলান ছিলেন পর্তুগালের এক অসাধারণ সাহসী সমুদ্র ভ্রমণকারী l তিনি পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করার কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন l 1480 খ্রিস্টাব্দে পর্তুগালের এক দরিদ্র পরিবারে তিনি  জন্মেছিলেন l মা-বাবার সঙ্গে রাজপরিবারের সম্পর্ক ছিল মধুর l কিন্তু ম্যাগেলান মাত্র 10 বছর বয়সেই মা-বাবা দু’জনকেই হারান, ফলে পর্তুগিজ রাণীর কাছে বড় হয়েছিলেন l ছোটবেলা থেকেই তিনি বেশ চালাক-চতুর ছিলেন l

তাই অচিরেই শিখে ফেললেন জ্যোতির্বিজ্ঞান, নেভিগেশন, ভূগোল ও সমুদ্র বিজ্ঞান l প্রথম জীবনে পর্তুগিজ রাজসভায় চাকরি করেন I চাকরির সুবাদে পর্তুগালের প্রধান বাণিজ্য দ্রব্য যথা- মসলা, সুগন্ধি, রেশম ইত্যাদি নিয়ে প্রচুর অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করলেন l অচিরেই ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে পর্তুগালের রাজা ম্যানুয়েল সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয় l কালবিলম্ব না করে বিরক্ত ম্যাগেলান দেশের সীমানা অতিক্রম করে চলে আসেন স্পেনে l স্পেনে তখন রাজা পঞ্চম চার্লস I রাজা সাদরে গ্রহণ করলেন l ম্যাগেলান ও বিশ্ব পরিক্রমা প্রস্তাব দিলেন l

উদ্দেশ্য

পর্তুগাল ও স্পেনের নাবিকদের অভিযান গুলি থেকে ম্যাগেলান বিশ্বাস করতেন পৃথিবীর আকার কোনভাবেই চ্যাপ্টা নয়, আসলে পৃথিবীর আকার যে গোল তা তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন  l তাই তিনি মনে করলেন কেউ যদি কোন এক স্থান থেকে ক্রমাগত একই দিকে ক্রমাগত যাত্রা করে তাহলে সে আগের অবস্থানে একদিন ফিরে আসবে l

এই ধারণা থেকেই তিনি রাজার কাছে প্রস্তাব দিলেন  যে পর্তুগাল থেকে যদি আফ্রিকার দক্ষিণতম বিন্দু অর্থাৎ উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে যদি আরব সাগর পেরিয়ে ভারতের কালিকট পৌঁছানো যায়, তাহলে পশ্চিমের মহাসাগরীয় জলপথ অতিক্রম করে ক্রমশ পশ্চিম দিকে অগ্রসর হলে প্রাচ্যের দেশে যাওয়া সম্ভব l রাজা সহজেই রাজি হলেন l কারণ স্পেন তখন আটলান্টিকের পশ্চিম তীরের দেশসমূহে খ্রিস্টান ক্যাথলিক ধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে উদ্বুদ্ধ l সেইসঙ্গে ছিল সোনার লোভ l

শর্ত

 ম্যাগেলান ও রাজার মধ্যে এক চুক্তি হলো I চুক্তি অনুসারে ম্যাগেলান পেলেন 100 টনের অধিক বেশ বড় পাঁচটি জাহাজ পর্যাপ্ত রসদ কামানসহ প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র ও দুই বছরের খাবার l আর অভিযান শেষে লাভের এক-তৃতীয়াংশ ম্যাগেলান পাবে সেই সঙ্গে অধিকৃত যেকোনো দুটি দ্বীপের উপর সর্বময় কর্তৃত্ব I

ম্যাগেলান এর সমুদ্র অভিযান

ম্যাগেলান রওনা হলেন 1519 সালের 30 সেপ্টেম্বর সেভিল বন্দর থেকে I দক্ষিণ আমেরিকার শেষ প্রান্তের খোঁজে জাহাজ এগিয়ে চলল l প্রথমে ব্রাজিল তারপর রিয়োদেলাপ্লাতার মোহনা, মোহনা পেরিয়ে আর্জেন্টিনার সেন্ট জুলিয়ান বন্দর l এখনো শেষ সীমায় না পৌঁছনোয় নাবিকরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে l সবাই ম্যাগেলান কে অনুরোধ করেন যে এই দুরূহ সমুদ্রযাত্রার পরিকল্পনা ত্যাগ করে সবাই যেন দেশে ফেরে l কিন্তু ম্যাগেলান বিদ্রোহ দমন করে স্থির  লক্ষ্যে এগিয়ে চলেন l কিছুদিনের মধ্যে ঘটল বিশাল বিপদ I ডুবো পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে একটি জাহাজ ডুবে গেল l যদিও নাবিকরা সবাই সাঁতার কেটে অন্য জাহাজে উঠে পড়ে l রইল এখন চারটে জাহাজ l

1520 সালের অক্টোবরে জাহাজগুলি পৌঁছলো এক সরু সামুদ্রিক প্রণালীতে l সবাই ভাবলো এটাই শেষ সীমা l কিন্তু না প্রায় 150 মাইল এগিয়ে যাওয়ার পরও দুদিকে উঁচু ডুবন্ত পাহাড় ম্যাগেলান নিজের নামেই প্রণালীর নাম রাখেন মাগেলান প্রণালী l আরো প্রায় 170 মাইল অতিক্রম করলে প্রণালী শেষ হয় I 28 শে নভেম্বর এলো সেই দিন যেদিন ম্যাগেলান দেখলেন দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিমী বিশাল জলরাশি আরেক মহাসাগর l ম্যাগেলান সাহস পেলেন I  তিনি বুঝতে পারলেন এই বিশাল জলরাশি অতিক্রম করলেই তার গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে I

এখান থেকে ম্যাগেলান চললেন উত্তর-পশ্চিমে প্রায় হাজার মাইল l সময় লাগল প্রায় তিন মাস I. কিন্তু জাহাজ পড়ল না কোন ঝড়-ঝঞ্ঝায়  I তাই বিশাল শান্ত জলরাশি নাম রাখলেন প্রশান্ত মহাসাগর l বিপদ এলো অন্য জায়গায় l রসদ ও খাবার ফুরিয়ে এলো l বাধ্য হয়ে নাবিকরা জাহাজের খোলের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ইঁদুর আরশোলা দেরকে তাদের খাদ্য বানালো l মাঝে দু একটা দ্বীপ পাওয়া গেলেও সেগুলি বসতির অনুপযুক্ত তাই পাওয়া গেল না কোন খাবার l 

অবশেষে এলো বসতিপূর্ণ ডাঙ্গা ফিলিপিনস দ্বীপপুঞ্জ 1521 সালের 6 মার্চ l এখানে পাওয়া গেল  যথেষ্ট খাদ্য ও পানীয় l এখানে রয়েছে অসংখ্য দ্বীপ I ম্যাগেলান একদিক থেকে অন্যদিকে গেলেন মূলত খ্রিস্টধর্ম প্রচার ও স্পেনের প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে l এভাবে জয় করলেন শিবু দ্বীপ l এবার গেলেন মাতান দ্বীপ এ l

বিপদ বাধল এখানে এসে l রাজাকে খ্রিস্টান ধর্মান্তরকরণের চেষ্টা করলে সবাই ক্ষেপে গেল l বিপদ বুঝে ম্যাগেলান জাহাজে উঠে পালানোর চেষ্টা করলেন বটে, কিন্তু শেষ রক্ষা হল না l দীপ বাসীরা ধরে ফেলে হত্যা করলো l 1521সালের 21 এপ্রিল মাত্র 41 বছর বয়সে ম্যাগেলান এর জীবন শেষ হয়ে গেল এই দ্বীপে I

ম্যাগেলান এর মৃত্যুর পর নাবিকেরা দু’ভাগে ভাগ হয়ে যা দুটি জাহাজে উঠে পড়লেন l বাকি একটি জাহাজ কে পুড়িয়ে ফেললেন I উদ্দেশ্য পূর্বনির্ধারিত পথে দেশে ফেরা l মানে দক্ষিণ আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্তের  উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে স্পেনের সেভিল বন্দরে ফেরা l বাদ সাধল বাতাস l বাতাস ততদিনে উল্টোমুখো l একটি জাহাজ এগোনোর নামে পৌঁছলো ইন্দোনেশিয়ার কোন এক বন্দরে l বন্দরটি পর্তুগিজের দখলে l

পর্তুগিজরা বিনা বাধায় জাহাজটি দখল করল  l তবে অপর জাহাজটি পর্তুগীজদের চোখ এড়িয়ে মসলা ও লবঙ্গ বোঝাই করে উত্তমাশা অন্তরীপ এগোলো l তারপর 1522 সালের 8 সেপ্টেম্বর এসে পৌঁছল স্পেনের সেভিল বন্দরে l লবঙ্গ ও মসলা পেয়ে স্পেনের রাজা অসম্ভব খুশি হলেন বটে ,কিন্তু চুক্তিমতো ম্যাগেলান অর্জিত সম্পদের ভাগ নেওয়ার কেউই বেঁচে ছিল না l কেননা কিছুদিন আগেই ম্যাগেলান এর স্ত্রী ও মারাগিয়েছিলেন l

উপসংহার

ভাস্কোদাগামা কিংবা কলম্বাসের ভৌগলিক অভিযানের চেয়ে অনেক বেশি বর্ণময় ছিল এই অভিযান I পৃথিবী যে গোল চ্যাপ্টা নয় এরকম ধারনা কেবল অনুমানভিত্তিক নয় তার বাস্তব প্রমান ম্যাগেলান দিতে পেরেছিলেন l যদিও ম্যাগেলান তার অভিযান সম্পূর্ণ করতে পারেনি l তবুও তিনি তাঁর জীবদ্দশায় গোলাকার পৃথিবীর প্রমাণ ও  প্রশান্ত মহাসাগরের অস্তিত্ব দেখে যেতে পেরেছিলেন l আরেকটি বিষয় না উল্লেখ করলে ঠিক হবে না তাহলো কলম্বাস বা ভাস্কদাগামার অভিযানে ব্যক্তি কলম্বাসের, বা  ব্যক্তি ভাস্কোদাগামার  যে অত্যাচার ও নৃশংসতা ধরা পড়েছিল তা ম্যাগেলান এ চরিত্রে পাওয়া যায়নি l ম্যাগেলান এর এই ভ্রমণ যাত্রা কেবল মশলানগরী আবিষ্কারের যাত্রা ছিল না, এটি ছিল সমগ্র পৃথিবী কে গোলাকার পথে  পরিভ্রমণের সর্বপ্রথম সমুদ্রযাত্রা l

Leave a Reply

Your email address will not be published.