Discovery of the sea route to India by Vasco da Gama | ভাস্কো দা গামার ভারতে সমুদ্রপথের আবিষ্কার


When the Spaniards invaded the West, the Portuguese were looking for a way to India from the East. It did not take long for it to become known that Columbus had entered an unknown country other than India. The Portuguese are most excited by this news. Manuel, then King of Portugal. Manuel commissioned a navigator named Vasco Da Gama to discover a commercial waterway for India. 

Vasco Da Gama was born into an aristocratic family in the province of Sins in Portugal. He was a mathematician and astronomer. The king had two purposes. The first is the propagation of Christianity in Africa and Asia, and the second is Portuguese control of international trade. Vasco da Gama was selected as the person qualified for these two jobs. The condition of the expedition was that if Vasco da Gama returned unsuccessfully, he would be sentenced to death.

First expedition

On July 4th, 1497, Vasco Da Gama set sail from the port of Lisbon with 4 ships and 170 sailors. With three years of logistics and four of Portugal’s most experienced sailors, Gama started the expedition. These 4 sailors were in charge of four ships. The journey was made using the experience of previous travelers.

The ship first reached the Canary Islands and moved a little west to the coast of Africa, thus avoiding the turbulent sea storms off the coast.

He traveled 4,000 miles to St. Helena Island three months later, where he was interrupted by locals.

Leaving the Cape of Good Hope behind in early November, he reached the Gulf of Hussein, then proceeded a little along the east coast of Africa. He named the island Natal where he landed on the day of Jesus Christ’s birthday on 25th December.  He repaired a ship at the mouth of a large river across the Natal. He named the river Good  Signe river.

It is probably the Zambezi River. Again a long journey across the River. During this time, scurvy was seen among the sailors of the ship and they took part in the protest. Gamma severely suppressed the protest and forced the sailors to move forward. He arrived in Mozambique on March 2, 1498. The trade area adjacent to the port was inhabited by Arab Muslims.

A little further on, Vasco da Gama’s ships reached Mombasa, Vasco da Gama’s ships crossed the region between 7 and 18 April 1498.

The ship Vasco Da Gama came further north to the port of Malindi. Here you can find some Indians. One of them is a director who had enough knowledge about the favorable monsoon winds to reach the Indian port, Calicut. 

Probably he was the Gujarati sailor Ibn Majid.

At the suggestion of the sailor, Vasco-da-Gama left the African coastal port of Malindi on 24 April for India. Finally, on 20 May, Vasco-da-Gama arrived at the port of Calicut with its fleet. He was not allowed to do business in India. Finally, Vasco-da-Gama had to leave India on 29 August.

The way back was not so easy. It was very difficult to sail against the monsoon. It took only 23 days to cross the sea route on arrival, but it took 132 days to return. The fleet of Vasco Da Gama arrived at the port of Malindi on 27 January 1499. It was found that about half of the sailors had died, while the rest had contracted scurvy and there was a shortage of sailors. He ordered a ship to sink off the coast of East Africa. Then he divided the crew of the three ships into two ships and returned. 

On his way back to the West African coast, Vasco da Gama’s brother became very ill. So Vasco da Gama and his brother landed on an island. The rest were sent on another ship to Lisbon. On the soil of the country, the hero is welcomed. 

Second Expedition

In 1527, King Manuel of Portugal sent Vasco-da-Gama on a second expedition to India. This time another purpose was added to expel the Muslims from the shores of the Arabian Sea and at the same time to take revenge against Calicut. Adequately armed troops and sailors left the port of Lisbon on 12 February. 

This huge fleet arrived near Goa in October. At that time a ship full of pilgrims from Mecca came into the Arabian Sea and Gamma suddenly jumped against them. He plundered the ship and sank it, killing all the passengers. According to the writings of many historians, Vasco da Gama himself was enjoying the scene of the atrocity through the ship’s window at the time.

This time he reached the port of Calicut. Already rumors of Gamma’s atrocities have spread around. The port of Calicut became completely empty due to fear. Gamma proposes a new trade agreement with Calicut on the condition that all Muslims be expelled from the Malabar coast. 

Zamorin rejected the claim. As a result, the city of Calicut came under heavy shelling from Gamma ships for two days. Many people died and much damage was done. In the meantime, twenty-four ships loaded with rice from the Coromandel coast landed at Calicut and were looted by Gamma, and cut off the hands and feet of the sailors, tied them up, and carried them all aboard a ship. 

The rest of the ships were set on fire. At that time, a man named Vincent Sardar was made a spy as a Gamma servant, and Gama returned to Lisbon. King Manuel himself greeted Gamma and welcomed him.

Gama lived quietly in Lisbon for almost two decades. After the death of King Manuel in 1921, a third man came to power. Vasco-da-Gama was appointed chief adviser of the king.

Gamma came to India for the third time in 1524. He was in India for only three months. After three months he suddenly fell ill and died at the age of 64. He was buried next to St. Francis Churchill Church. After Gamma’s death, the Dutch, French, English, etc. tribes set foot in India in the way shown by the Portuguese.


Vasco da Gama is a Portuguese explorer and traveler who came to India by sea from Europe in the first fifteenth century. He not only connected Asia and Europe but also the Atlantic and Indian Oceans. He was the first successful white man to bridge the gap between Western culture and the Eastern world.

Note in Bengali

ভাস্কো দা গামার ভারতে সমুদ্রপথের আবিষ্কার


স্প্যানিশরা যখন পশ্চিমে অভিযান চালিয়েছিল পর্তুগিজরা তখন পূর্ব দিক দিয়ে ভারতবর্ষে যাওয়ার পথ খুঁজছিলl কলম্বাস যে ভারতে নয় অন্য কোনো অজানা দেশে পদার্পণ করেছেন, এ কথা জানাজানি হতে বেশি সময় লাগল না l পর্তুগিজরা এই সংবাদে উজ্জীবিত হল সবচেয়ে বেশি l পর্তুগালের রাজা তখন মানুয়েলl মানুয়েল দায়িত্ব দিলেন ভাস্কদাগামার নামে এক নৌ চালককে ভারতবর্ষের জন্য বাণিজ্যিক জলপথ আবিষ্কার করার l

ভাস্কদাগামার জন্ম পর্তুগালের সিন্স প্রদেশের এক অভিজাত পরিবারে l তিনি ছিলেন গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিদ l রাজার দুটো উদ্দেশ্য ছিল l প্রথমটি হল আফ্রিকা ও এশিয়া  মহাদেশে  খ্রিস্টধর্ম প্রচার ও প্রতিষ্ঠা এবং দ্বিতীয়টি হল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পর্তুগীজদের নিয়ন্ত্রণ l এই দুই কাজের যোগ্য ব্যক্তি নির্বাচিত হলেন ভাস্কোদাগামাl এই অভিযানের শর্ত দেওয়া হল যে, ব্যর্থ হয়ে ভাস্কোদাগামা যদি ফিরে আসে তাহলে তাকে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে l 

প্রথম অভিযান

1497 সালের 4 th জুলাই 4 টি জাহাজ এবং 170 জন নাবিক নিয়ে ভাস্কদাগামা লিসবন বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করলেন l সঙ্গে নিলেন তিন বছরের মতো রসদ আর পর্তুগালের সবচেয়ে অভিজ্ঞ 4 জন নাবিককে l এই 4 জন নাবিক চারটি জাহাজের দায়িত্বে ছিলেন l

পূর্বের ভ্রমণকারীদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে যাত্রাপথ তৈরি হয়েছিল l প্রথমে জাহাজ ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত এসে আফ্রিকার উপকূল থেকে পশ্চিমে খানিক সরে যায় ফলে উপকূলের অশান্ত সমুদ্র ঝড়-ঝাপটা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয় l  তিন মাস পর 4000 মাইল পথ পেরিয়ে গেলেন সেন্ট হেলেনা দ্বীপে l এখানে অবশ্য নামতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে তিনি বাধা পান l

নভেম্বরের শুরুতে উত্তমাশা অন্তরীপ কে পেছনে ফেলে পৌঁছন হোসেন উপসাগরে, তারপর আফ্রিকার পূর্ব উপকূল ধরে একটু একটু করে এগিয়ে যেতে লাগলেন l যিশুখ্রিস্টের জন্ম দিনে যেখানে নামেন সেখানকার নাম রাখলেন নাটাল বা জন্ম l নাটাল পেরিয়ে এক বড় নদীর মোহনায় জাহাজ মেরামত করেন l

নদীটির নাম দেন শুভসংকেতের নদী l এটি সম্ভবত জাম্বেসি নদী l নদী পেরিয়ে আবার দীর্ঘ যাত্রা l এসময় জাহাজের নাবিকদের মধ্যে স্কার্ভি রোগ দেখা যায় এবং তারা সমবেত বিক্ষোভে অংশ নেয় l গামা কঠোরভাবে এই বিক্ষোভ দমন করেন এবং নাবিকদের এগিয়ে যেতে বাধ্য করেন l

1498 সালের 2nd মার্চ এসে পৌছল মোজাম্বিকেl  এখানকার বন্দর সংলগ্ন বাণিজ্য অঞ্চল ছিল আরবিীয় মুসলিম অধ্যুষিত l এবার আর একটু এগিয়ে ভাস্কোদাগামা দের জাহাজ পৌঁছালো মোমবামায় l ভাস্কোদাগামা দের জাহাজ এই অঞ্চল 1498 সালের 7 থেকে 18 এপ্রিলের মধ্যে অতিক্রম করে l

ভাস্কদাগামার জাহাজ আরো উত্তরে এসে পৌঁছলো মালিন্দী বন্দর l এখানে কিছু ভারতীয়দের সন্ধান পান l এদের মধ্যে একজন পরিচালকের সন্ধান পাওয়া যায়, যার ভারতের কালিকট বন্দরে পৌঁছানোর জন্য অনুকূল মৌসুমী বায়ু সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান ছিল l সম্ভবত তিনি হলেন গুজরাতি নাবিক ইবন মাজিদ l ভাস্কো-ডা-গামা এই নাবিকের পরামর্শেই 24 এপ্রিল আফ্রিকার উপকূল বন্দর মালিন্দি ছেড়ে ভারত অভিমুখে রওনা হন l

অবশেষে 20 মে ভাস্কো-দা-গামা নৌবহর সহ কালিকট বন্দরে পৌঁছায় l তবে কালিকটের রাজা জামোরিন গামা দের ভালোভাবে গ্রহণ করলেন না l গামা কিছু উপহার এনেছিলেন রাজার জন্য, এসব উপঢৌকন কে গুরুত্ব না দিয়ে ভাস্কো-ডা-গামা কে  প্রতিপক্ষ বলে ভাবেন l ফলে ব্যবসা করার অনুমতি পেলেন না l ফলে 29 শে আগস্ট ভাস্কো-ডা-গামা কে ভারত ছাড়তে হয় l

ফেরার পথ টা এত সহজ হলো না l তখন মৌসুমী বায়ুর উল্টোদিকে জাহাজ চালানো বেশ কষ্টকর l আসার সময় যে পথ পাড়ি দিতে মাত্র 23 দিন সময় লেগে ছিলো, তা ফিরে যেতে সময় লাগলো 132 দিন l ভাস্কদাগামার নৌবহর 1499 সালের 27 জানুয়ারি মালিন্দী বন্দর এলে দেখা যায় প্রায় অর্ধেক নাবিকের মৃত্যু হয়েছে, বাকিরা স্কার্ভি রোগে আক্রান্ত হলে জাহাজ চালানোর নাবিকের অভাব দেখা দিলো l

একটি জাহাজ পূর্ব আফ্রিকার উপকূলে ডুবিয়ে দিতে আদেশ দিলেন l তারপর তিনটি জাহাজের কর্মীদের দুটি জাহাজে ভাগ করে নিয়ে ফিরতে লাগলেন  l পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলের দিকে ফেরার পথে ভাস্কোদাগামার  ভাই ভীষণ ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লেন l তাই ভাস্কোদাগামা তার ভাইকে নিয়ে একটি দ্বীপে নেমে পড়েন l বাকিদের অপর একটি  জাহাজে লিসবনে পাঠিয়ে দেন কিছুদিনের মধ্যে ভাইয়ের মৃত্যু হয় l তারপর ভাস্কোদাগামা একটি হালকা দ্রুতগামী জাহাজের সেপ্টেম্বরের শুরুতে দেশে ফেরেন l গামা কে দেশের মাটিতে বীরের সম্মানে বরণ করা হয় l

দ্বিতীয় অভিযান

পর্তুগালের রাজা মানুয়েল 1527 এ, ভাস্কো-ডা-গামা কে দ্বিতীয় বার ভারত অভিযানে পাঠালেন l  এবার আরেকটি উদ্দেশ্য যোগ হলো আরব সাগর উপকূল থেকে মুসলিম উৎখাত করা  ও সেই সঙ্গে কালিকট এর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া l

পর্যাপ্ত অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সেনাবাহিনী ও নাবিক নিয়ে রওনা হলেন 12 ই ফেব্রুয়ারি লিসবন বন্দর থেকে I অক্টোবরের দিকে এই বিশাল নৌবহর পৌঁছল গোয়ার কাছাকাছি l  এ সময় মক্কা থেকে একটি তীর্থযাত্রী পূর্ণ জাহাজ আরব সাগরে এসে পড়লে গামা হঠাৎ করে তাদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন l লুট করে জাহাজটিকে ডুবিয়ে দিয়ে সমস্ত যাত্রীদের হত্যা করলেন l অনেক ঐতিহাসিকদের লেখনি থেকে জানা যায়,  ভাস্কোদাগামা সেই সময় নিজে জাহাজের জানালা দিয়ে সেই নৃশংসতার দৃশ্য উপভোগ করছিলেন l

এবার পৌছলেন কালিকট বন্দরে l  ইতিমধ্যে গামা দের নৃশংসতার কথা ছড়িয়েছে চারিদিকে l ভয়ে কালিকট বন্দর পুরো ফাঁকা হয়ে যায় l গামা কালিকট এর সঙ্গে নতুন করে বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাব দেয় সেই সঙ্গে শর্ত দেন মালাবার উপকূল থেকে সমস্ত মুসলিমদের বিতাড়িত করতে হবে l

জামোরিন এই দাবি খারিজ করলেন ,ফলে গামা জাহাজগুলি থেকেই দুদিন ধরে কালিকট শহরের প্রচুর গোলাবর্ষণ করা হয় l বহু লোক মারা যায় এবং বিস্তর ক্ষয়ক্ষতি হয় l ইতিমধ্যে করমন্ডল উপকূল থেকে চব্বিশটি চালভর্তি জাহাজ কালিকট এসে পড়ায় গামা সেগুলি লুট করেন এবং নাবিকদের হাত-পা নাক কেটে দিয়ে বেঁধে একটি জাহাজে সবাইকে তুলে জলে ভাসিয়ে দেয় l বাকি জাহাজগুলি কে আগুন জ্বালিয়ে দেন l সেই সময় ভিন্সেন্ট সরদার নামে এক ব্যক্তিকে গুপ্তচর তৈরি করে গামা সেবারের মত ফিরে গেলেন লিসবনে l  রাজা মানুয়েল স্বয়ং গামা কে অভিনন্দন জানিয়ে সাদরে গ্রহণ করলেন l

এরপর প্রায় দু’দশক গামা নিরবে লিসবনে বাস করেন l 1921 সালে রাজা  মানুয়েল মৃত্যু হলে তৃতীয় জন ক্ষমতায় আসীন হন I তৃতীয় জন অভিজ্ঞ ভাস্কো-ডা-গামা কে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করলেন l  1524 খ্রিস্টাব্দে গামা তৃতীয়বারের জন্য ভারতে আসেন I ভারতে মাত্র তিন মাস ছিলেন তিন মাস পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাত্র 64 বছর বয়সে মারা যান I সেন্ট ফ্রান্সিস চার্চিল গির্জার পাশে  তাকে সমাধিস্থ করা হয়I গামার মৃত্যুর পর পর্তুগিজদের দেখানো পথে ওলন্দাজ, ফরাসি, ইংরেজ  প্রভৃতি উপজাতিরা ভারতবর্ষে পা রাখেন l


ভাস্কোদাগামা একজন পর্তুগিজ অনুসন্ধানকারী ও পর্যটক I যিনি প্রথম পঞ্চদশ শতাব্দীতে সমুদ্রপথে ইউরোপ থেকে ভারতে আসেন I তিনি শুধু এশিয়া ও ইউরোপকে সংযুক্ত করেননি সাথে সাথে আটলান্টিক ও ভারত মহাসাগরকে সংযোগ করেছিলেন I এদিক থেকে তিনি প্রথম সফল শ্বেতাঙ্গ যিনি পশ্চিমী দুনিয়ার সঙ্গে প্রাচ্যের সংস্কৃতির সেতুবন্ধন তৈরি করতে পেরেছিলেন l

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *